Monday, April 27, 2020

ইসকনের কীর্তন কুরুক্ষেত্র থেকে করোনা কুরুক্ষেত্রঃ ওরা ৩৫ জন
==

 
 


সম্প্রতি স্বামীবাগ ইসকন মন্দির লকডাউন হওয়ার পর সবার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার মসজিদে ১০ জনকে নামায পড়তে না দিলেও ইসকন মন্দিরে ৩৫ জন (বা তারও বেশি) জমায়েত হতে দিয়েছে! এটা নিয়ে যখন সাধারণ মুসলমান এক-আধটু কথা বলা শুরু করেছে, তখন হিন্দুরা ফেসবুকের কমেন্টবক্সে গলাবাজি করে বলছে, জানেন এরা সন্ন্যাসী, এদের ঘরবাড়ি নাই, ত্রাণ দেয়ার কাজে তারা মন্দিরে আছে। মুসলমানগুলো এত্তো খারাপ!

মুসলমানেরগুলোর গোল্ডফিশ মেমোরি, তাই মনে করতে পারছে না ঠিক কোন কারণে এই লকডাউনের সময় ইসকনীরা মন্দিরে থাকবে। ২০১৪ সালের কথা মনে করুন, তখন এই স্বামীবাগ ইসকনের মন্দির থেকে হিন্দু পুলিশ পাঠিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছিল, ইসকনের কিত্তন আছে। ইসকনের কীর্তনের জন্য তাড়াতাড়ি রাত ১০টার মধ্যে তাবারীহ নামায শেষ করতে হবে, নতুবা মসজিদে ‘তালা ঝুলিয়ে’ দেয়া হবে। তখন এ নিয়ে সংঘর্ষে ইসকনীদের ছোড়া ইটের আঘাতে ৮-১০ জন মুসল্লী আহত হয়েছিল।

২০১৬ সাল, সিলেটের কাজলশাহ ইসকন মন্দির, সেখানে জুমার নামাযের সময়েও তারা কীর্তনের সাউন্ডবক্স এতটুকু কমাতে রাজি হয়নি। দরজা বন্ধ করে বিকট শব্দে সাউন্ড বক্স, আর প্রতিবাদ করতে আসলে মন্দিরের পাঁচিলের ওপর থেকে হিন্দু পুলিশের বন্দুকের নল বের করে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে গুলি।

তারাবী, জুমা থেকে শুরু করে সার্বক্ষণিক যে কীর্তন স্বামীবাগের ইসকনীরা করে যাচ্ছে, করোনার লকডাউনেও কি তা বন্ধ থাকবে? প্রশ্নই উঠে না! এরা কি মুসলমানদের মতো ভ্যাবদা নাকি, চাকমা মেজিস্ট্রেট জরিমানা করবে আর গুড বয়ের মতো তা দিয়ে দেবে? তারা লকডাউনেও প্রতিদিন কীর্তন করছে এবং ফেসবুকে তা লাইভ প্রচার করছে। সার্বক্ষণিক কীর্তনের জন্য এখনও ইসকন মন্দিরে প্রচুর লোকবল রয়েছে এবং এতে করেই আক্রান্ত হয়েছে ‘ওরা ৩৫ জন’।

এই কীর্তন হচ্ছে তাদের মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের মতো, মুসলমান সামান্য প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর ইট-পাটকেল-হিন্দু পুলিশের বন্দুক হাতে ঝাঁপিয়ে পড়া হবে। এই কীর্তন কুরুক্ষেত্র এখন পরিণত হয়েছে করোনা কুরুক্ষেত্রে। পর্দার আড়ালের খবর হলো, স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে করোনায় বেশ কয়েকজন মারাও গিয়েছে, কিন্তু এই তথ্য মিডিয়া ব্ল্যাকআউট করা হয়েছে। মারা না গেলে ওখানে ৩৫ জন (আসলে তারও বেশি) যে করোনা আক্রান্ত, সেটা মানুষ জানতেও পারত না।

তবে স্বামীবাগের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে চট্টগ্রামে প্রবর্তক ইসকন মন্দিরে, পুন্ডরিক ধামে। কারণ চট্টগ্রাম হচ্ছে বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদের নাভি, সেখানে এই করোনার সময়েই প্রচুর বিদেশী ইসকনী এসেছে চট্টগ্রামে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি মন্দির উদ্বোধন করতে, যেটি তাদের প্রধান কার্যালয় হতো। সরকার এবং মিডিয়া তা নিয়ে কোনো কথা বলছে না, আর মুসলমান অছাম্প্রদায়িকতাবশত প্রতীক্ষা করছে তাদের ধ্বংসের জন্য।

(নিচে গত ২৫ এপ্রিল তারিখের লাইভ ভিডিওর স্ক্রীনশট দেয়া হলেও ইসকন স্বামীবাগ মন্দির প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও কীর্তনের ভিডিও লাইভ ব্রডকাস্ট করেছে, গতকাল সন্ধ্যায়ও করেছিল। যার লিঙ্ক https://www.facebook.com/IskconTVDhaka/videos/231156568110113/?hc_location=ufi )

No comments:

Post a Comment